পৃথিবীর পথে বাংলাদেশ

সাইকেলে আমেরিকার সিয়াটল থেকে ওয়াশিংটন ডি.সি

Muntasir Mamun

স্বপ্নের দেশ আমেরিকা যাওয়ার জন্য প্রচলিত পথ ছেড়ে সাইকেলে বিশ্বভ্রমণের পথ বেছে নেওয়া এক প্রকৌশলীর গল্প। চাকরি ছেড়ে, বই-বিদ্যা চুলোয় দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রা দেশ-মহাদেশ পেরিয়ে, নানা চড়াই-উতরাই আর ২০১১-১২ সালের কিছু কঠিন অভিজ্ঞতা পার হয়ে অবশেষে পৌঁছায় আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে। পথে পাওয়া বন্ধু-স্বজনদের সহযোগিতা আর কৃতজ্ঞতার স্মৃতিচারণে গাঁথা এই বই।

Price

৳ 600.00

Publisher

বেঙ্গল পাবলিকেশন্‌স

Publication Date

June 14, 2022

Pages

280

ISBN

9789849701934

Buy BookOrdering will open when price and availability are confirmed.

আমেরিকায় সাইকেল চালানোর তাগিদটা পুরোনো। ‘স্বপ্নের দেশ’ আমেরিকায় মানুষ গেলে আর ফিরে কেন আসতে চায় না, সেটা দেখতে দেখার লালসা বহু দিনের। দুনিয়ায় আরো কত কত দেশ, ছোট দেশ, বড় দেশ, পাহাড়ের দেশ, সাগরের দেশ, মেঘের দেশ, বালির দেশ আবার অনেকের কাছে না-ফেরার দেশ। কিন্তু আমেরিকা, আমেরিকাই কেন, তার উত্তর জটিলই।

আটলান্টিকের ওপারের দেশে শত বছর ধরে মানুষ জীবিকার জন্য হোক আর ভাগ্যের অন্বেষণেই হোক, গিয়েছেন, থিতু হয়েছেন, গড়েছেন একদম আলাদা এক রাষ্ট্র। যে-রাষ্ট্রে অধিবাসী হয়েছেন অভিবাসী হয়ে। আমেরিকা তাই সারা পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত দেশ।

আমার উচাটন মনও অবচেতন আটকে যায় এর রূপকথায়। রাস্তা কিছুটা সহজ ছিল যদি আমি প্রচলিত পথে এগিয়ে যেতাম। কিন্তু “দেখতে চাই ধরণী” ধারা রোমান্টিসিজমে বেঁকে বসে জীবন। তাই চাকরি ছেড়ে হয় দুনিয়া দেখার লোভে। সামনে কী হবে, কী আছে, কী থাকবে- সে-হিসাব মেলানোর ক্যালকুলাসে একদমই কাঁচা আমি বরাবর। তাই প্রকৌশলী হয়ে আমেরিকা যাওয়ার চেয়ে সাইকেলে আমেরিকা যাওয়ার পথ মাড়াতে মন সায় দিলো বেশি। চুলোয় গেল ১৬ বছরের তাবড় তাবড় বইপত্রের বিদ্যা। জমানো টাকা আর বন্ধুবান্ধবের ধারের বোঝা কাঁধে নিয়ে সাইকেলের শুরু – দেশ, মহাদেশ, যতটুকু যাওয়া কুলিয়েছে, চেষ্টা করে গেছি ঢুঁড়াকায় দুনিয়া দেখতে। আর তারও সাত বছর পর আমেরিকা পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত সাইকেল যাত্রা।

ভিসা পাওয়ার গল্পটা অনেক নয়। এই গল্প আমাদের অনেকেরই মতোই। তাই আর গল্প না করাই ভালো। শেষমেশ ২০১১-তে এক কনফারেন্সের পোস্টার প্রেজেন্টেশনের আমন্ত্রণে ভিসা মিলেছিল। আর সেটাই সুযোগ হয়ে এসেছিল। কিন্তু আমেরিকা আসার পর, যাদের সহযোগিতা ছাড়া এই যাত্রা ভীষণ কঠিন হয়ে যেত, তাদের কথা না বললেই নয়। এই ধরনের দীর্ঘ কোনো অভিযানে সবকিছু বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই যাত্রা শুরুর আগে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, রসদ জোগাড় করাও একটা বড় কাজ হয়ে যায়। সাইকেল মেরামতের জন্য মেকানিকের কাছে যাওয়া, ক্যাম্পিংয়ের জন্য তাঁবু, রাত্রি করার স্টোভ থেকে শুরু করে অনেক কিছু। সকাল-বিকেল-রাত একাকার করে সহযোগিতা করেছেন সনি কামালভাই। নিউইয়র্কে তাঁর সাহায্য ভোলার নয়। আমার বন্ধু সুমু আর কবিরভাই, যাদের বাড়িতে সময় অসময়ে হানা দেওয়া হয়েছে।

২০১১ সালে প্রথম আমেরিকা ভ্রমণের সময় এই নিউইয়র্কেই গাড়ির জানালা ভেঙে আমার ক্যামেরাসমেত টাকা-পয়সা বা কিছু ছিল, সব চুরি হয়ে গিয়েছিল। সেই স্মৃতির ভয়াবহতা আজও আমাকে হানা দেয়। চোখের পলকে প্রায় নিঃস্ব হয়ে যাওয়া যে কত সহজ তা বলে বোঝানো কঠিন। সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে মুছে দেওয়ার জন্য আমার চার বন্ধু প্রিতম, ব্রাশি, আফজাল ও আরমানের অবদান না বললেই নয়। চুরি হয়ে যাওয়া ক্যামেরার চেয়ে আরো ভালো ক্যামেরা কিনে দিয়েছেন এ-চারজন। এই গল্পের দৈর্ঘ্য অনেক। শুধু আভাস দেওয়া গেল। এই বইয়ের সব তোদের জন্য।

আমার সহপাঠী ওয়াহিদ, জয়দীপ; অনুজপ্রতিম হাসান তারেক; ওয়াশিংটন ডিসিতে পাশুর (ইশতিয়াক) আতিথেয়তা না পেলে শেষটা কষ্টের হতো। এই দলেরভাইও, মাসুদভাই, শামিমভাইয়ের কথা চলে এসেছে নানাভাবে। ঠিক সেভাবে রাগিব হাসানভাইয়ের সহযোগিতা কাজে লেগেছে বেশ। আমি ব্যুয়েটের না হয়েও ব্যুয়েটিয়ানদের যে-সহযোগিতা পেয়েছিলাম, তা ভোলার নয়। আমরা বোন মাফরুহা ও তার পরিবার, আমার ভাই এনিয়েট – অফুটে সলঞ্জব বলার চেষ্টা করছি, নীরবে তোমাদের রেখে গেলাম।

২০১২ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে লিখে ফেলতে যার অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি ছিল, তিনি আমার বন্ধুপ্রতিম রফিক হারিরিভাই। তিনি এবার লিখে বলেছেন যে, শেষমেশ বইটা লিখে ফেলা গেছে। ১০ বছর বেশ লম্বা সময়। তাই সে-সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে যথাসম্ভব সুচারুভাবে তুলে ধরা যায় তাদের প্রায় সবার সঙ্গেই একাধিকবার কথা বলা হয়েছে। প্রযুক্তি অনেকখানি বিরত করার জন্য।

প্রখ্যাত লেখক, ইলেক্ট্রটার সুজি বেকার ও National Oceanic and Atmospheric Administration-এর সাথে মরিসন এবং বেঞ্জেল ফাউন্ডেশনের লুৎফা নাহিদ চৌধুরী আপনাদের বিশেষ ধন্যবাদ। এই বই আপনাদের কাছে কৃণী।

About the Author

Muntasir Mamun

Muntasir Mamun

Writer, Researcher, Environmentalist

We believe important books do not always require mass production.